রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
Skills71
দক্ষতার সংবাদপত্র
সর্বশেষ
প্রচ্ছদ›চলমান প্রশিক্ষণ›কীভাবে হবেন একজন সার্টিফাইড কেয়ারগিভার?
চলমান প্রশিক্ষণ

কীভাবে হবেন একজন সার্টিফাইড কেয়ারগিভার?

বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি যে পেশাটির চাহিদা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে, তা হলো কেয়ারগিভিং (Caregiving)। বিশেষ করে জাপান, যুক্তরাজ্য (UK), কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এখন হাজার হাজার…

কীভাবে হবেন একজন সার্টিফাইড কেয়ারগিভার?
কীভাবে হবেন একজন সার্টিফাইড কেয়ারগিভার?
বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি যে পেশাটির চাহিদা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে, তা হলো কেয়ারগিভিং (Caregiving)। বিশেষ করে জাপান, যুক্তরাজ্য (UK), কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এখন হাজার হাজার সার্টিফাইড কেয়ারগিভারের প্রয়োজন হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর প্রচুর মানুষ সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
আপনিও যদি এই মহৎ এবং উচ্চ আয়ের পেশায় নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান, তবে আপনার কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন? আজকের ব্লগে আমরা একদম সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করব।

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা (Educational Background)
কেয়ারগিভার হওয়ার জন্য কোনো মেডিকেল বা নার্সিং ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ শিক্ষার যেকোনো মাধ্যম থেকে পড়াশোনা করেই এই পেশায় আসা সম্ভব।
  • ন্যূনতম যোগ্যতা: বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) বা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA)-এর অধীনে বেসিক কেয়ারগিভিং কোর্সে ভর্তির জন্য সাধারণত এসএসসি (SSC) বা সমমান পাস হতে হয়।
  • উচ্চতর সুযোগ: আপনি যদি বিদেশে সরাসরি কোনো ভালো পজিশনে আবেদন করতে চান, তবে কিছু ক্ষেত্রে এইচএসসি (HSC) বা স্নাতক ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
২. বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা (Age & Physical Fitness)
কেয়ারগিভিং একটি কঠোর পরিশ্রমের কাজ। রোগাক্রান্ত, শিশু বা বয়স্ক মানুষকে হুইলচেয়ারে বসানো, বিছানা থেকে তোলা বা সার্বিক দেখভাল করার জন্য শারীরিক ফিটনেস অত্যন্ত জরুরি।
  • বয়সসীমা: সাধারণত ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সের যেকোনো সুস্থ ব্যক্তি এই পেশার জন্য আবেদন করতে পারেন।
  • শারীরিক সুস্থতা: আবেদনকারীকে অবশ্যই ছোঁয়াচে বা দীর্ঘমেয়াদী কোনো জটিল রোগ থেকে মুক্ত হতে হবে।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক ট্রেনিং ও সার্টিফাইড কোর্স (Professional Training)
শুধু মানবিক গুণ থাকলেই কেয়ারগিভার হওয়া যায় না, এর জন্য কিছু টেকনিক্যাল কাজ (যেমন: ফার্স্ট এইড, প্রেশার ও সুগার মাপা, ওষুধের সঠিক ডোজ দেওয়া) জানতে হয়।
  • আপনাকে অবশ্যই সরকারি অনুমোদিত (NSDA বা BTEB) কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে Caregiving Course (Level-3) বা ৩ থেকে ৬ মাস মেয়াদী কোনো ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।
  • ট্রেনিং শেষে চূড়ান্ত অ্যাসেসমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করতে হবে।
৪. ভাষাগত যোগ্যতা (Language Skills for Abroad)
আপনি যদি বাংলাদেশে কাজ করতে চান, তবে বাংলা জানাই যথেষ্ট। কিন্তু আপনার লক্ষ্য যদি হয় বিদেশে যাওয়া, তবে ভাষাগত যোগ্যতা সবচেয়ে বড় শর্ত:
  • জাপানের জন্য: জাপানিজ ভাষার NAT-TEST/JLPT-এর N4 বা N5 লেভেল পাস করতে হবে।
  • ইউকে বা কানাডার জন্য: IELTS (General/Academic)-এ ভালো স্কোর (সাধারণত ৫.৫ থেকে ৬.০) অথবা ওটিই (OET) পরীক্ষা পাস করতে হবে।
৫. মানসিক গুণাবলী ও সফট স্কিলস (Soft Skills)
একজন ভালো কেয়ারগিভার হওয়ার আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে তার আচরণে। আপনার মধ্যে নিচের গুণগুলো থাকা আবশ্যক:
  • ধৈর্য ও সহমর্মিতা: অসুস্থ বা বয়স্ক মানুষ অনেক সময় খিটখিটে মেজাজের হন, তাই অত্যন্ত ধৈর্য নিয়ে তাদের সেবা করতে হবে।
  • যোগাযোগ দক্ষতা: ডাক্তার, নার্স এবং রোগীর পরিবারের সাথে চমৎকারভাবে পরিস্থিতি শেয়ার করার মানসিকতা থাকতে হবে।

শেষ কথা
কেয়ারগিভিং কেবল একটি চাকরি নয়, এটি একটি সেবামূলক সম্মানজনক পেশা। সঠিক সময়ে সঠিক কোর্স এবং যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে এই সেক্টরে নিজের ভবিষ্যৎ যেমন উজ্জ্বল করা সম্ভব, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের নামও উজ্জ্বল করা যায়।

সম্পর্কিত খবর

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য লিখুন

সপ্তাহের প্রশিক্ষণ বুলেটিন

নতুন কোর্স, ভর্তির শেষ তারিখ আর ফলাফল—প্রতি বৃহস্পতিবার একবার ইমেইলে।